Breaking News
Home / টিপস এন্ড ট্রিক্স / কচুরিপানা দিয়ে সত্যিকার সুস্বাদু রেসিপি দেখুন (ভিডিওসহ)

কচুরিপানা দিয়ে সত্যিকার সুস্বাদু রেসিপি দেখুন (ভিডিওসহ)

গত১৭ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এক পদক প্রদান অনুষ্ঠানে ‘কচুরিপানা গরু খেতে পারলে আমরা কেন পারবো না ?’ এমন মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। যা নিয়ে পরে সোশ্যাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন মাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। অথচ মন্তব্যটি অবাস্তব নয়। কম্বোডিয়ানরা কচুরিপানা দিয়ে সুস্বাদু রেসিপি তৈরি করে খায়।

কচুরিপানার বংশবৃদ্ধির অবস্থা দেখে আঁতকে উঠতে হয়। অতি অল্প দিনে এই উদ্ভিদ দ্রুত বংশ বিস্তার করে। আদিভূমি ব্রাজিল থেকে অভিযান শুরু করে আজ পৃথিবীব্যাপী এর দৌরাত্ম্য ছড়িয়ে পড়েছে। কচুরিপানায় যেমন বহমান পানির স্রোত বন্ধ হয়ে নৌচলাচলে বাধার সৃষ্টি হয়, তেমনই পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্রের টার্বাইনে জড়িয়ে তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তা ছাড়া বদ্ধ পানিতে কচুরিপানার জন্য সাপের উপদ্রব এবং মশা-মাছির দ্রুত বৃদ্ধি দেখা যায়।

এ জন্য এক সময়ে অবিভক্ত ভারতবর্ষে সব রাজনৈতিক দলই কচুরিপানা সাফ করার কর্মসূচি তাদের ইশতেহারে রাখত। গুরুসদয় দত্ত তার ব্রতচারী গানগুলোর মধ্যে কচুরিপানা ধ্বংসের ডাক দিয়েছিলেন। তবে এ কালের একদল বিজ্ঞানী কচুরিপানা নিয়ে হাতে-কলমে পরীক্ষা চালিয়ে দেখিয়েছেন যে কচুরিপানা আসলে সম্পদ।

এদিন পুরো বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘আমি অনুরোধ করবো কচুরিপানা নিয়ে কিছু করা যায় কিনা ?  আমি তো গ্রামের ছেলে। আমাদের এলাকায় নদীগুলো সব কচুরিপানায় ভর্তি। কচুরিপানার পাতা খাওয়া যায় না কোনও মতে ? গরু খেতে পারলে আমরা কেন পারবো না ?’ এসময় তিনি হাসতে হাসতে বলেন, ‘এমনি একটা কথা বললাম।’ তিনি মূলত কচুরিপানা নিয়ে গবেষণার কথা বলেছেন।

তবে কচুরিপানা আসলে কী ? চলুন, এবার সেটা জেনে নেই-

কচুরিপানা মুক্তভাবে ভাসমান বহুবর্ষজীবী জলজ উদ্ভিদ। এর আদিনিবাস দক্ষিণ আমেরিকা। পুরু, চকচকে এবং ডিম্বাকৃতির পাতাবিশিষ্ট কচুরিপানা পানির উপরিপৃষ্ঠের ওপর ১ মিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে। এর কাণ্ড থেকে দীর্ঘ, তন্তুময়, বহুধাবিভক্ত মূল বের হয়, যার রঙ বেগুনি-কালো। একটি পুষ্পবৃন্ত থেকে ৮-১৫টি আকর্ষণীয় ৬ পাঁপড়িবিশিষ্ট ফুলের থোকা তৈরি হয়।

কচুরিপানা খুবই দ্রুত বংশবিস্তার করতে পারে। এটি প্রচুর পরিমাণে বীজ তৈরি করে যা ৩০ বছর পরও অঙ্কুরোদগম ঘটাতে পারে। সবচেয়ে পরিচিত কচুরিপানা Eichhornia crassipes রাতারাতি বংশবৃদ্ধি করে এবং প্রায় দুই সপ্তাহে দ্বিগুণ হয়ে যায়।

কচুরিপানা দিয়ে কাগজের মণ্ড তৈরির পাশাপাশি বায়ো ফুয়েল হিসেবে ব্যবহার করে বিশ্বের অনেক দেশ। শুধু তাই নয়, কচুরিপানা আসলেই খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হয় কম্বোডিয়ায়। দেশটির মানুষ কচুরিপানা লতি আর ফুল ব্যবহার করে অসাধারণ একটি মাছের স্যুপ তৈরি করে, যা তাদের নিত্যকার খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হয়। আপনারা যারা এই লেখাটি পড়ছেন তাদের সুবিধার্থে এ রেসিপিটি দেয়া হলো।

ব্যবহৃত উপকরণ-

১। কচুরিপানার ফুল ও লতি
২। শাক পাতা
৩। শোল মাছ
৪। রসুন
৫। আদা
৬। লাল মরিচ
৭। বিশুদ্ধ পানি
৮। লবণ

ভিডিও দেখুন এখানে- 

প্রথমে শোল মাছ কেটে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে। এরপর কচুরিপানা থেকে ফুলসহ লতি আলাদা করে নিতে হবে। এরপর শাক পাতা কুচি করে কেটে নিতে হবে। এরপর চুলায় পানি গরম করে তাতে রসুন কোয়া ও আদা ছিলে পিষে দিয়ে দিতে হবে। পরে ধুয়ে পিস করে রাখা মাছের টুকরা দিয়ে দিতে হবে।

মাছ সিদ্ধ হয়ে আসলে এতে একে একে কেটে রাখা শাক পাতা, কচুরিপানার ফুল ও লতি দিয়ে দিতে হবে। এরপর লাল মরিচ ফালি করে কেটে দিয়ে দিতে হবে। সবশেষে লবণ দিয়ে  ফোটাতে হবে। ১০ মিনিট বাদে নামিয়ে পরিবেশন করতে হবে। আশাকরি ভিন দেশের খাদ্য হলেও খেতে খুব একটা খারাপ হবে না।

About esheba

All service together. It's the main thing to publish online fb page e-sheba. if you search anything to get our online website https://www.e-sheba.com.

Check Also

এতদিনের পরিচিত টেক ইন্ডাস্ট্রি কি বদলে যাচ্ছে মহামারির প্রভাবে?

করোনাভাইরাসের প্রকোপ যে শুধু আমাদের প্রত্যাহিক জীবনে পড়েছে তা-ই নয়, একইসাথে এই ভাইরাস পুরো বিশ্বের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *