Breaking News
Home / টিপস এন্ড ট্রিক্স / ডোমেইন কি? ডোমেইন কিভাবে কাজ করে, কিভাবে বিক্রি করবেন, কেমন অায় হতে পারে সব একসাথে ।

ডোমেইন কি? ডোমেইন কিভাবে কাজ করে, কিভাবে বিক্রি করবেন, কেমন অায় হতে পারে সব একসাথে ।

ডোমেইন হলো ঠিকানা, ধরুন অাপনাকে যদি অামি ডাক দিতে চাই কি ভাবে ডাকবো? অবশ্যই নাম ধরে, ওয়েব সাইট নির্দিষ্ট অাই্পি তে হোস্ট করা থাকে যা মনে রাখা কষ্টকর তাই সহজে মনে রাখার জন্য অাইপি কে টেক্সটে্ রূপান্তর করা হয় যা ডোমেইন নামে পরিচিত ।

অনেকেই জানতে চান ডোমেইন কিভাবে কাজ করে কারা এর নিয়ন্ত্রন করে, কিভাবে করে ইত্যাদি । মুলত ICANN (IANA এর মাধ্যমে অাইপি ডিস্ট্রিবিউশান করানো হয়) এর মাধ্যমে ডোমেইন এর রেজিস্ট্রি ডিস্ট্রিবিউশান করা হয় । এটি একটি চ্যারিটাবল সংস্থা যার কাজ হলো দুনিয়ার সব ডোমেইনের রেজিস্ট্রি কোম্পানীর সাথে চুক্তি করা, নতুন এক্সটেনশান বের করা ইত্যাদি । ধরুন আপনার সিমেন্টের কোম্পানী আছে আপনি হলেন এক্ষেত্রে ICANN, এরপর আপনার থেকে যারা কিনবে ( wholeseller ) তারা হলো Registry যেমন, BTCL, verisign etc. এরপর wholeseller দের থেকে যারা কিনবে তারা হলো প্রোভাইডার, যেমন: গ্রিনওয়েব, গোড্যাডি, নেমচিপ ইত্যাদি । এরপর যারা প্রোভাইডার থেকে কিনবে তারা রিসেলার । এরপর যারা কিনবে তারা খুচরা ক্রেতা ।

তো, রেজিস্ট্রিরা সাধারনত খুচরা ডোমেইন বিক্রি করে না যদি না তারা ccTLD এর প্রোভাইডার হয় । অবশ্য কান্ট্রি ব্যাসড হলেও অনেকে বিক্রি করে না যেমন .in, .me ইত্যাদি । তবে বাংলাদেশের ব্যাপার আলাদা, বিটিসিএল বিক্রি করে শুধু বিক্রি করে না তারা রিতিমত একচোটিয়া ভাবে ব্যবসা গড়ে তুলেছে, বাংলাদেশ বলেই এটা পেরেছে উন্নত দেশে ccTLD প্রোভাইডার রা রিসেলার দের মাধ্যমে ব্যবসা করে । বাংলাদেশে এটা করে নি কারন সে ক্ষেত্রে লাখ টাকার ফ্যান কিনার সুযোগ তারা পেত না । ০.১৮ ডলার বা 15 টাকায় ক্রয়কৃত ডোমেইন বিক্রি করতো অাগে ১৫০০ টাকায় এখন তাদের ফ্যানের চার্জ যুক্ত করে ডোমেইনের দাম ২০০০ টাকায় নিয়ে এসেছে  । যাইহোক, ccTLD যে দেশের জন্য দেওয়া হয় ঐ দেশের মানুষের জন্যই ওটা শুধু মাত্র available করা হতো প্রথম দিকে কিন্তু পরবর্তিতে এটাকে ইন্টারন্যাশনাল পর্যায়ে বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয় যার কারনে এখন .me, .in, .uk এর মত ccTLD সবাই যখন তখন কিনতে পারে ।

প্রোভাইডাররা চাইলে খুচরা কিংবা রিসেলারের কাছে বিক্রি করতে পারে ।

কিভাবে রেজিস্ট্রি হবেন ?

ব্যাংকে ৭০০০০ ডলার এবং বা‍ৎসরিক ৪০০০ ডলার করে ফি দেবার ক্ষমতা থাকলে আপনি icann তে apply করতে পারবেন, apply করার পর তারা সব ডকুমেন্ট চেক করবে যদি মনে করে যে আপনি পারবেন রেজিস্ট্রি হতে তবে তারা আপনাকে রেজিস্ট্রি বানাবে এবং কিছু নতুন এক্সটেনশানের মালিক করে দিবে আর যে এক্সটেনশান গুলো শুধু মাত্র আপনার কাছ থেকেই অন্যরা কিনে বিক্রি করতে পারবে এমনকি অন্য রেজিস্ট্রির ও বিক্রি করতে চাইলে আপনার কাছ থেকে কিনে করতে হবে । যেমন: .google এর মালিক গুগল, .youtube এর মালিক গুগল, .donut এর মালিক donut, .tata এর মালিক টাটা কোম্পানী ( ইন্ডিয়া )

নিজস্ব ডিএনএস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম থাকতে হবে

কিভাবে প্রোভাইডার হবেন: এটা অনেক ভাবেই হওয়া যায় তবে নতুন রা এটা হতে পারবেন না । প্রথমে একটি রেজিস্ট্রি কোম্পানী খুঁজে বের করুন তাদের সাথে যোগাযোগ করুন ইমেইলে দেখুন তাদের requirements কি কি । যেমন, গ্রিনওয়েব কে প্রোভাইডার হবার জন্য ১০০০ টি  TLD রেজিস্টার করতে হয়েছে এবং সেইসাথে রিসেলার দের জন্য আমরা কি কি সুযোগ সুবিধা দিতে পারবো তা হাতে কলমে দেখাতে হয়েছে । এরপর রেজিস্ট্রি থেকে আমরা অনুমতি পেয়েছি EPP protocol ব্যবহার করার ।  এরকম প্রোভাইডার: rpproxy, verisign ইত্যাদি

Generic EPP এর এক্সেস থাকতে হবে ।
রিসেলার প্যানেল থাকতে হবে ।

রিসেলার কিভাবে হবেন:

যে কেউ যেকোনো সময়ে হতে পারবেন, দেখুন কারা কারা রিসেল করার সুবিধা দেয়, গ্রিনওয়েবে আছে এরকম সুবিধা । গোড্যাডিতে ২৫ টি ডোমেইন কেনার পর অপ্লাই করতে হবে । রিসেলার হবার পর ওরা অাপনাকে হয় WHMCS module দিবে কিংবা API দিবে যার উপর ব্যাসড করে অাপনাকে ক্রেতাদের জন্য কন্ট্রোল প্যানেল ডিজাইন করতে হবে ।  কিছু কোম্পানী white labeled কন্ট্রোল প্যানেল অাছে ক্লাইন্ট কে ধোঁকা দিতে চাইলে ঐগুলো নিজেদের কন্ট্রোল প্যানেল বলে চালিয়ে দিতে পারেন তবে বুঝতেই পারছেন মানুষ বোকা না ঠিকই বুঝবে অাপনি কি কাজ করতেছেন । তা্ই সব থেকে ভালো WHMCS ব্যবহার করা কিংবা নিজেই বানিয়ে নেওয়া ।

ক্রেতা :

ক্রেতা হবার জন্য নির্দিস্ট পরিমান টাকা দেওয়া ছাড়া আর তেমন কিছু লাগবে না 😉 মজা করলাম

রেজিস্ট্রিরা কত টাকা দিয়ে ডোমেইন কিনে?

প্রতিটা ডোমেইন বাবদ 0.18 dollar ফি দিতে হয় এবং বছরে ৪০০০ ডলার করে এটাই তাদের খরচ । এর বাহিরে স্ট্রাকচার চালানো, লোকজনের স্যালারি ইত্যাদি খরচ রয়েছে ।

প্রোভাইডার রা volume অনুযায়ী দাম দিয়ে কিনে, যেমন এখন আমরা 9$ এর মত করে .com ডোমেইন কিনি, আজকের রেট অনুযায়ী 725.36 টাকা আর বিক্রি করি ৯০০ টাকাতে ১৭৫ টাকা ইনকাম । যার জন্য সারা বছর আপনাকে ২৪৭ লাইভ সাপোর্ট আমরা দেই । এবার নিজেই ভাবুন ১৭৫ টাকার বিনিময়ে গ্রিনওয়েব থেকে কি কি সুবিধা পান একটা ডোমেইন কিনলে ।

অনেক সময় বিভিন্ন কোম্পানী নানা রকম অফার দেয়,  কারন মাঝেমধ্যে প্রোভাইডার রা নানা রকম অফার পায় রেজিস্ট্রি থেকে যেমন বর্তমানে গ্রিনওয়েব থেকে xyz ডোমেইন কিনলে দাম পড়বে 300 টাকা ! কারন XYZ ডোমেইন কে পপুলার করতে রেজিস্ট্রি এর দাম কমিয়ে দিয়েছে । তো এ কারনে আমরাও দাম কমাতে পেরেছি । তবে অনেক কোম্পানী প্র্র্রোতারনাও করে প্রথম বছর এক রেট দ্বিতীয় বছর আর এক রেট দিয়ে এমনকি ট্রান্সফারের সময় নানা রকম হিডেন রুল দিয়ে দেয় । এ কারনে অফারে না গিয়ে স্ট্যান্ডার্ড প্রাইস দিয়ে সার্ভিস ক্রয় করা উচিত । মনে রাখবেন সবাই ব্যবসার জন্য আপনাকে সার্ভিস দিচ্ছে আর সবাইই কিনে বিক্রি করছে সুতরাং যদি দামে অাকাশ পাতাল কম পান এ ক্ষেত্রে সার্ভিসে ঘাপলা থাকতে পারে । দাম কমলে সবাই কমাবে দাম বাড়ালে সবাই বাড়াবে এটাই হলো অাসল কথা ।

কিরকম লাভ হয় ?

প্রতি ডোমেইনে ১০০-২০০ টাকা পর্যন্ত লাভ হয় ( স্যালারির/কোম্পানী চালানোর হিসাব করলে তাও হয় না ), ধরুন আপনার ১০০০০ হাজার ডোমেইন আছে তখন আপনার প্রতি ডোমেইন এ ১০০-২০০ টাকা লাভ হলে তা গায়ে লাগবে, অন্যথা বুঝতেই পারছেন ২০-৩০ টা ডোমেইন নিয়ে ১০০-২০০ ইনকামে কিছুই হবে না । পুরাই ফ্লপ বিজনেস 😉 অবশ্য অনেকের কাছ থেকে ডোমেইন কিনলে তারা অাপনাকে কন্ট্রোল প্যানেল দিবে না কিংবা দিলেও কন্ট্রোল প্যানেল সব ফিচার থাকবে না এরা মূলত প্রোভাইডারদের অফার থেকে কিনে বিক্রি করে তাই কন্ট্রোল প্যানেল দিতে পারে না । এদের ব্যবসাতে অাবার লাভ অাছে, কিন্তু রিস্কও অাছে । কিছু হলেই এরা লো চম্পাট দিবে বাঁশ অাপনার জন্য রেখে 😉

কিভাবে ডোমেইন কাজ করে ?

ডোমেইন প্রথমে টেক্সট থেকে আইপিতে কনভার্ট হয় । আইপি মনে রাখা কঠিন বলেই ডোমেইনের আবিষ্কার এটা মনে রাখবেন ।
আইপিতে কনভার্ট হবার পর এটি ডিএনএস সার্ভারে সন্ধান করে হোস্টের জন্য হোস্ট পেলে তখন তা রিসলভ করে ( ডি এনএস হাইজ্যাকিং এর সম্পর্কে জানেন নিশ্চয় এই ধাপে হাইজাক হয় সাধারনত )
হোস্টে রিকোয়েস্ট পাঠানোর পর তা হোস্ট সার্ভারের কনফিগ ফাইলে অনুসন্ধান করে উপরোক্ত ডোমেইন টি কোন ইউজারের অ্যাকাউন্টে আছে
অ্যাকাউন্ট পেলে তখন সেখান থেকে ফাইল দেখানো শুরু করে ।

খুব সহজ প্রোসেস তাই না ? হাহা আমি টেকনিক্যাল ব্যাখ্যা দেই নি সিম্পলভাবে বললাম যাতে সবাই বুঝতে পারেন ।  নিচের ছবি টি দেখুন :

প্রতিটি সার্ভারেরই নির্দিষ্ট ইউনিক আইপ থাকে এবং ঐ আইপির সাথে ডোমেইনের সংযোগ স্থাপনের জন্য DNS ব্যবহার করা হয় । DNS রেকর্ড বিভিন্ন ধরনের হয় ।

DNS Element    Description
Nameserver    এটি মূলত এটি হলো একটি সার্ভার যাতে DNS ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম স্থাপন করা আছে কিন্তু যখন বলা হবে ওয়েবহোস্টিং নেমসার্ভার তখন বুঝে নিবেন এটি হলো সার্ভারের আইপি এর ডোমেইন । যেমন: 216.158.229.228 সার্ভার আইপি মনে রাখা জটিল তাই সহজে মনে রাখতে ns1.greenweb.com.bd আমরা ব্যবহার করি । এর দ্বারা মূলত ঐ আইপিকেই চিন্হিত করা হয় ।
Zone File    এটি একটি ফাইল যাতে DNS এর সব তথ্য জমা থাকে ।
A Record

এটা দ্বারা আলাদা আলাদা সার্ভারে একই ডোমেইনের সাব ডোমেইন কে হোস্ট করা সম্ভব ।

যেমন: @ এ যদি 216.158.229.228 দেন তবে ডোমেইন রুট এই সার্ভারে পয়েন্ট করা হবে ।

www যদি 216.158.229.229 দেন তবে তা 216.158.229.228 থেকে ডাটা না নিয়ে বরং 216.158.229.229 এ পয়েন্ট হবে এবং ডাটা প্রদর্শন করবে ।
CNAME    মূলত ডোমেইনকে নেমসার্ভার হিসাবে ব্যবহার করা হয় । যেমন: ব্লগস্পট ।
MX Records    এটি নির্ধারন করে মেইল সার্ভার কে ।

যাইহোক অনেক কিছু লিখলাম, অাশা করি নতুন পুরাতন সবারই কাজে দিবে 😉

লিখেছেন:

মো: জোবায়ের অালম

ফাউন্ডার, গ্রিনওয়েব বাংলাদেশ লিমিটেড ।

About esheba

All service together. It's the main thing to publish online fb page e-sheba. if you search anything to get our online website https://www.e-sheba.com.

Check Also

কচুরিপানা দিয়ে সত্যিকার সুস্বাদু রেসিপি দেখুন (ভিডিওসহ)

গত১৭ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এক পদক প্রদান অনুষ্ঠানে ‘কচুরিপানা গরু খেতে পারলে আমরা কেন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *